ব্যবসায়ী হতে গেলে, মূলধন প্রয়োজন ৷ মূলধন ছাড়া যে ব্যবসা, সেটাকে ব্যবসা বলা হয় না ৷ সেটা হয় অন্যকোন পেশা বা কাজের ভেতর পরে ৷ কিন্তু অনেকে উদ্যোক্তা হতে চায়, তাদের মূলধনের শক্তি কম, আরো কিছু টাকা হলে, হয়তো সে উন্নয়ন করতে পারতো ৷ সমস্যাটা হলো, ১০,০০০ টাকা সুদে নিলে প্রতিমাসে ১,০০০ টাকা সুদ টানতে হয় ৷ এটা সম্ভব? নতুন অবস্থায় সে আর কত টাকাই বা উপার্জন করতে পারবে! আপনার কল্যাণে আজকের আলোচনা সুন্দরভাবে উপস্থিত করতে চাই, আপনি মন দিয়ে পড়লে খুব ভালো হবে ৷

স্থানীয় কমিটি ঋণ সহয়তা:
আপনার এলাকাতেই দেখবেন, অনেকগুলো সংগঠন আছে, আপনার সাথে পরিচয় নাও থাকতে পারে, তবুও খুঁজুন৷ স্থানীয় যুব কমিটি, পাঠাগার কমিটি, ক্লাব কমিটি, ইউনিয়ন উদ্যোক্তা কমিটি ৷ সমাজ কল্যাণ সমিতি, পরিবার কল্যাণ সমিতি, বিবাহ ট্রাস্ট, সমবায় সংগঠন, সমবায় সমিতি, ধর্মীয় কমিটি, যুব কমিটি, স্থানীয় সংগঠন, বাজার কমিটি, গণমুখী তহবিল, সেচ্ছাসেবী উন্নয়ন ফান্ড, একতা সংগঠন, যুব উন্নয়ন সমিতি৷ আপনার মনে হতে পারে, এসব সংগঠন/সংস্থা/কমিটি/ফান্ড৷ আপনার এলাকায় নেই, আমি বলছি আপনি সন্ধান করুন, অবশ্যই আছে ৷ কিছু কিছু সংগঠন যেগুলো সেচ্ছাসেবী বা স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা, সেগুলো আপনার এলাকায় নাও থাকতে পারে, কিন্তু উপরে যেসব সংগঠন ও সংস্থার নাম বলা হয়েছে, এর মধ্য কয়েকটি সংগঠন সরকারি ৷ আর সরকারি সংগঠন প্রতিটি থানা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আছে৷ যদি আপনি সন্ধান করে না পান, তাহলে প্রযুসের সদস্য হতে পারেন, (নিচে সদস্য ফরম দেয়া আছে) ৷ সদস্য হলে প্রযুস আপনাকে আপনার স্থানীয় সরকারি সংগঠন, ও সংস্থার লিষ্ট দিবে, যেসব সংগঠন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিনা সুদে বা সামান্য শর্তে ঋণ দিয়ে থাকে ৷ কার্যকরী সদস্যদের জন্য প্রযুস কতৃপক্ষ নিজে দায়িত্ব নিয়ে, ঋণ নিয়ে দেয়, প্রয়োজনে প্রযুস ফান্ড থেকে ঋণ সহায়তা দেয় হয় ৷

পরিবার ও আত্বীয়-স্বজন থেকে ঋণ সহায়তা:
আপনার পরিবারের সচ্ছল কেই, (বড় ভাই) বা ভগ্নিপতি ৷ কাছের কোন বন্ধু, ঘরের সদস্য (বাবা মা) ৷ পরিচিত কেউ ৷ স্থানীয় ধনী ব্যক্তি, বা প্রভাবশালী ৷ সুদি, দানবীর ৷ দেখুন আপনার মনে হতে পারে, আপনার পরিবার খুবই গরিব, তাদের সামর্থ নেই, কিন্তু আমি বলছি, আপনি তাদের কাছে লাভের কথা তুলে ধরুন, আপনি তাদের জানান যে, আপনি যা করতে যাচ্ছেন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এই, এখানে লাভের অংশ এত ইত্যাদি ৷ আপনি তাদের সাথে আরো আন্তরিক হোন ৷ আরো কাছে যান, তাদের ভালোবাসুৃন, কাজে সাহায্য করুন৷ তাদের টাকা না থাকতে পারে, কিন্তু মুখের কথার প্রচুর দাম,আপনি কারো কাছে টাকা চাইলে নাও পেতে পারেন, কিন্তু তারা যদি চেষ্টা করে, কোনো না কোনোভাবে অন্যদের থেকে বিনা সুদে বা দীর্ঘমেয়াদি ধার এনে দিতে পারে, যা আপনাকে অন্যকেউ দিতো না ৷ তবে এটা তখনি করবেন, যখন ব্যবসার জন্য পূর্ণ মনোযোগী হবেন, যাতে টাকা দেয়ার বাবা মায়ের উপর কোনো চাপ না পরে৷

আপনি যদি সফল না হোন, প্রযুসের সদস্য হতে পারেন (নিচে সদস্য ফরম দেয়া আছে) ৷ এটা বুঝতে চেষ্টা করুন, যে-কোন একটি বিষয় যত সুন্দর ও মধুমাখা হোক, রাগের সময় সে স্বাদ কেউ নিতে পারে না ৷ একটা মূর্খ ব্যক্তিকেও আপনি কন্ট্রলে/ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন যদি নিখুত ও তীক্ষ্ণতার সাথে, একটা বিষয়কে সুন্দরভাবে তার সামনে উপস্থিত করেন ৷ তবে আপনি তাকে বোঝাতে হলে, আগে নিজে বুঝতে হবে ৷ না হলে সে একটা কথা বল্লেই আপনার শরীরে রাগ ওঠে যাবে ৷ যা-হোক খুব তীক্ষ্ণ জ্ঞানে ও কি কি কৌশলে তাকে বুঝিয়ে কন্ট্রলে আনবেন সেই পদ্ধতি জানাবে প্রযুস ৷ তবে সদস্য হোন ৷

বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ সুবিধা:
আইডিএলসি, এলজিইডি, এসএমসিএস, পিএডি, এলআইএম, এলটিআর, এসএমই, জিজেইউএস ৷ এগুলো হলো নামকরা সংস্থা যারা বিশেষ করে, বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষন দিয়ে থাকে ৷ বিশেষ করে মহিলাদের জন্য এরা বেশি আগ্রহী ৷ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মহিলাদের এটা স্বাবলম্বী করেছে, তারা নিয়মিত কাজ করে যাছ্ছে ৷ যদি আপনার পরিবার খুবই দারিদ্রের মধ্য থাকে, বা আপনার মেয়ে আছে, তাহলে “গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউ) এ ভর্তি করান ৷ ওরা অনেক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়, যেমন যদি আপনার মেয়ে কাপড় সেলাই করা শিখতে চায়, তাহলে বিনামূল্যে দর্জির প্রশিক্ষণ দিবে, তাছাড়া প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন দেয় ৷ এসবই বিনামূল্যে ৷ বিনামূল্যে ঋণ সহায়তাও পাবেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৷ আপনার এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠান খুঁজুন যদি না পান, তাহলে প্রযুসের সদস্য হতে পারেন ৷(নিচে সদস্য ফরম দেয়া আছে) সদস্য হলে প্রযুস এসব প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দিবে, যাতে আপনার জন্য ভালো হবে ৷ তাছাড়া প্রযুস থেকেই (পদানুযায়ী) কমবেশি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ৷

বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেয়া:
ইউসেপ বাংলাদেশ, দি গ্লেনকো ফাউন্ডেশন, স্র্যাক, সীমান্তিক, রিডো বাংলাদেশ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, প্রশিকা ৷ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট এফেয়ার্স (আইডিয়া), হীড বাংলাদেশ, গ্রামীন জনকল্যাণ সংসদ, ব্র্যাক, বাংলাদেশ, আশা, লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ, এডাব, ঈকোয়্যালিটি সোসাইটি (বেস), পরিবেশ আইনবিদ সমিতি, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, আশার আলো সোসাইটি, এনজিও সম্পর্কে কমবেশি সবাই ধারণা রাখে, কাজেই বিশেষ আলোচনা করার প্রয়োজন নেই, তবুও যদি আপনার বুঝতে কষ্ট হয়, তাহলে প্রযুসের সদস্য হতে পারেন, (নিচে সদস্য ফরম দেয়া আছে) ৷ আপনাকে এনজিও সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জানানো হবে, এনজিও কি কি শর্তে ঋণ দেয়, কত টাকা লাভ নেয়, কোনটিতে কেমন সুবিধা, কোনটি মাস কিস্তি বা সাপ্তাহিক সবকিছু পাবেন, আশা করি আপনার জন্য ভালো হবে ৷

ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান  থেকে ঋণ ব্যবস্থা:
সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড, বেসিক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ৷ ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারেন, যারা একটু বেশি ঋণ চান, তাদের জন্য ব্যাংক সুবিধাজনক ৷ কারণ এনজিও, ও অন্যান্য সংগঠন বেশি ঋণ দেয় না ৷ ব্যাংকের আলোচনা অনেক বড়, কারণ একেক ব্যাংকের নিয়ম একেকরকম তবে মোটামুটি প্রায়ই এক ৷ আপনি প্রযুসের সদস্য হতে পারেন (সদস্য ফরম নিচে দেয়া আছে) ৷ আপনাকে জানানো হবে কোন ব্যাংক থেকে মোটামুটিভাবে কি কি বুবিধা পাওয়া যায়, কোনটি উদ্যোক্তাদের শ্রদ্ধা করে, মূল কথা ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ৷

বাগী কথন:
দেখুন আপনি যেটাকে কঠিন মনে করছেন, অনেকটা ভয় লাগছে, চিন্তার বিষয় কি না কি হয়ে যায়, সত্যি বলতে সেটা ততটা কঠিন নয়, আবার যেটাকে সহজ মনে করছেন সেটাও ততটা সহজ নয় ৷ বাস্তবে প্রতিটি বিষয় তার স্বাভাবিক গতিতেই চলছে, আপনি একটু সচেতন হন, দেখবেন আপনি সফল হয়েছেন, কারণ আপনাকে কেন্দ্র করেই তার গতিপথ অব্যাহত ৷ আপনি ব্যাংকে যাবেন বলেই, বা সদস্য হবেন বিধায়ই কিন্তু ব্যাংক খোলা, আপনাকে দিয়েই তারা দু’মুঠো ভালো খেতে পারে, এখন আপনি যদি চিন্তায় মরে যান, আমি পাবো কি না, আমােক দিবে কি না, তাহলে কখনোই আপনি পাবেন না ৷ সবসময় নিজের অধিকারের দিকে লক্ষ রাখতেন ৷ আপনি ব্যাংকে গেলেন ঋণ নেয়ার জন্য, দেখলেন তারা এখন ঋণ দেয় না, তাদের প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে, অথবা নিয়ম পাল্টে গেছে ৷ আপনি যদি ঋণ না পেয়ে আর কিছু না বলে সেভাবেই চলে আসেন, সেটা হবে আপনার জন্য বোকামী, কারণ আপনি টাকা ব্যয় করে সেখানে গিয়েছেন, সময়, শ্রম ও প্রচুর মেধা ব্যয় হয়েছে, আপনার করণীয় হলো, যেভাবেই হোক ব্যাংকের কর্মকর্তার সাথে আলাপ করবেন, সময় না দিতে চাইলেও কৌশলে সময় নিবেন, ব্যাংক যতদিন আছে, ঋণ থাকবেই কারণ ঋণ ছাড়া সদস্য রাখতে পারবে না, বা সদস্য ছাড়া ব্যাংক চলতে পারে না ৷ আপনাকে জানতে হবে, এখন কোন নিয়মে তারা ঋণ দেয়, কি কি লাগে? মোট কথা ঋণ না পেলেন সমস্যা নেই ৷ কিন্তু এমন তথ্য নিয়ে আসবেন যাতে অন্য কোথাও থেকে ঋণ নিতে পারেন, আপনার সময়‌, শ্রম, মেধা, ও অর্থের বিনিময়ে এসব তথ্য দিয়ে উসুল করে নিবেন ৷ মনে রাখবেন, আপনি তাকে চিনেন না, সেও আপনাকে চেনে না, কখনো লোকসান দিয়ে সম্মানের আশা করবেন না ৷ কারণ আপনার লাভ হলে নদীনালা-পাহাড়-পর্বত ভেঙ্গে সম্মান আপনার কাছে চলে আসবে ৷ অবশ্যই আপনার ই-মেইলটি চালু রাখতে হবে, কারণ অধিকাংশ সেবা ই-মেইলের মাধ্যমে দেয়া হয়, সদস্য হলে আপনি বিস্তারিত জানতে পারবেন ৷

প্রতিষ্ঠান