স্মার্টফোনের আসক্তি থাকে মুক্তির সহজ উপায়

স্মার্টফোনের আসক্তি আছে কম বেশি সবার । তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিযন্ত্রের প্রতি আসক্তি মানুষের জীবনযাপনকে ক্রমশই বিপদগ্রস্ত করে তুলছে। তারা এত বেশি স্মার্টফোন বা অন্য যন্ত্র নিয়ে সময় কাটান যে অনেক সময় আশাপাশের মানুষের কথাই ভুলে যান। আমাদের সময় ও সামাজিক সম্পর্কের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব সত্যিকার অর্থেই চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তিকে একেবারে ছেড়ে দিতে বলছে না কেউ। তাহলে আবার স্বাভাবিক জীবনও বাধাগ্রস্ত হবে। তবে আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মাদকের প্রতি আসক্তি যেমন ভয়ানক, তেমনি মারাত্মক স্মার্টফোনের আসক্তি । মাত্র ৩ সপ্তাহে এ থেকে বেরিয়ে আসাতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রথম সপ্তাহ
১।  প্রথমেই বাড়িতে বা অন্য কোনো স্থানকে, যেখানে আপনি সময় কাটান, ‘টেক ফ্রি জোন’ হিসাবে ঘোষণা দিন। ওই স্থানগুলোতে নির্দিষ্ট সময় থেকে যেকোনো ধরনের প্রযুক্তি পণ্য ব্যববহার বন্ধ থাকবে।

২।  দিনের শুরুতে সামান্য পরিবর্তন আনুন। সকাল ঘুম থেকে উঠে আগে যে সময়টাতে স্মার্টফোন হাতে নিতেন, এখন থেকে তার ৩০ মিনিট পর থেকে তা করবেন। এটাই হবে প্রথম সপ্তাহ থেকে আরোপিত নতুন নিয়মের একটি।

৩।  পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ডিনারের সময়টাকে ‘ডিজিটালমুক্ত সময়’ করে ফেলুন। এ সময় আপনি আর কখনই স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন না।

দ্বিতীয় সপ্তাহ
১।  অভ্যাসটা ত্যাগ করতে হবে। তাই ধীরে ধীরে বিপরীতমুখী অভ্যাস গড়ে তুলুন। জরুরি টেক্সট বা ই-মেইল পাঠানো ছাড়া মোবাইল হাতেই নেবেন না।

২।  ফোনের সেটিংস-এ সামান্য পরিবর্তন আনুন। টার্ন অফ পুশ নোটিফিকেশন্স বন্ধ করে দিন। সব কল, টেক্সট বা সোশাল মিডিয়া আপডেট দেখার দরকার তো নেই আপনার।

৩।  ধরুন, কোনো লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। সেই সময়টাতে ফেসবুক ব্যবহার করতে থাকেন আপনি? বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকলে টুইটারে ঢুকে পড়েন? এই কাজগুলো বন্ধ করতে থাকুন।

৪।  প্রতিদিন ১ বা ২ ঘণ্টা কোনো ধরনের ডিজিটাল পর্দার দিকে তাকাবেন না আপনি- এই নিয়ম বাস্তবায়িত করে দিন।

তৃতীয় সপ্তাহ
১।  আসলে একেবারে তো আর প্রযুক্তিপণ্যগুলোর ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। তবে যখন দরকার কেবল তখনই ব্যবহার করুন।

২।  অফলাইনে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখুন। কাজে বা স্মার্টফোনে যেখানেই ব্যস্ত থাকুন না কেন, ৪০ মিনিট পর পর সেখান থেকে ৫-১০ মিনিটের জন্য উঠতে হবে। প্রয়োজনে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখুন।

৩।  এমন একটি অ্যাপ ডাউনলোড করুন যা আপনাকেই আটকে দেবে স্মার্টফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে। যেমন রয়েছে ‘অ্যাপডিটক্স’। এই অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি আপনার মোবাইলের অনেকগুলো অ্যাপকে একটি বিশেষ সময় ছাড়া খুলতে দেবে না।