ডিজিটাল মার্কেটিং কেন দরকার ?

ডিজিটাল মার্কেটিং নামটা শুনলেই মনে হয় ইলেক্ট্রনিক কোন কিছু আছে । এক কথাই বলা যায় ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া যেমনঃ সোশ্যাল মিডিয়া, ফেসবুক , গুগল, ভিডিও, টুইটার , ইমেল ইত্যাদি ব্যবহার করে পণ্য বা সার্ভিস প্রচার করা । এর মাধমে এক সাথে বিভিন্ন কাজ আলাদা আলাদা ভাবে করা যায় । ডিজিটাল মার্কেটিং এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনার কাস্টমারদের সকল পছন্দ অপছন্দ আপনি যেকোনো জাইগায় বসে জানতে পারবেন । এমনকি কোন নতুন ব্যক্তিকে কাস্টমার এ রুপান্তরিত করতে পারবেন । ব্যবসায় এর সাথে কাস্টমারদের একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি ইত্যাদি সম্ভব ডিজিটাল মার্কেটিং এর দ্বারা । ডিজিটাল মার্কেটিং এর ধাপগুলা হোল যেমনঃ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ফেসবুক , সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, টুইটার , সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং, ইমেল মার্কেটিং ইত্যাদি।

একবার ভেবে দেখুন আপনার যে প্রচলিত মার্কেটিং বলতে আসলে কি বুঝাচ্ছেন ? পোস্টার ,ব্যানার ,লিফলেট ,বিলবোর্ড ,মাইকিং ,দেয়াল লিখন ,অফিস ভিজিট ইত্যাদি। এবার একটা কথা বলুন যতগুলো পদ্ধতির কথা বললেন , এদের মধ্যে কোন একটি পদ্ধতি কি আপনি টার্গেট করে আপনার মার্কেটিং করতে পারবেন ? না পারবেন না ।কারন আপনি ঢাকার উত্তরাতে থাকলে তাহলে আপনার জন্য ধানমন্ডিতে পণ্য বিক্রয় করা কষ্টসাধ্য হবে । অনেক ক্রেতা তাদের বাসার কাছের দোকান থেকে পণ্য কিনতে ভালবাসে। এদেরকে যদি আপনি টিভি বা রেডিও এর কথা ভাবেন, তাহলে একটা কথা বলবো, সেখানে দুই পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপন এর খরচ অনেক বেশি এবং সব ব্যবসায়ীদের পক্ষে বিজ্ঞাপন দেয়া সম্ভব নয়। তাহলে আপনি বুঝতেই পারছেন, আপনার প্রচলিত এই বিজ্ঞাপন এর সমস্যাগুলো কোথায় কোথায় ? কিন্তু একবার ডিজিটাল মার্কেটিং এর কথা ভাবুন এই পদ্ধতিতে আপনি অনলাইনে আপনি একটা দোকান খুলতে পারবেন । যার ফলে টার্গেট করে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন ।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংঃ

ফেসবুক সৃষ্টির মাধ্যমে পৃথিবীতে সোশ্যাল মিডিয়া নামক এক ভার্চুয়াল পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রভাব প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন মানুষ ঘুম থেকে উঠে প্রথম ফেসবুকে বন্ধুরা কে কি লিখেছে তা দেখতে পছন্দ করে, টুইটারে কি টুইট করেছে তা Check করতে চায়, ইন্সটাগ্রামে নিজের একটি ছবি দিতে চায়। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের সাথে নিভিড়ভাবে জড়িত হয়ে যাচ্ছে। এই জন্য আপনি যদি কোন এক স্থানে সকল ধরনের প্রচুর পরিমান কাস্টমার বা গ্রাহক চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অন্যান্য যেকোন মাধ্যম থেকে কম খরচে অনেক বেশি কাস্টমার আকর্ষন করা যায়।

সোশ্যাল মিডিয়া মধ্যে ফেসবুক, টুইটার, পিন্টারেস্ট, লিঙ্কডিন ইত্যাদি অন্যতম। তাই এই সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে মার্কেটিং অবশ্যই করা উচিত।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনঃ

ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি ব্যাপক জনপ্রিয় উপাদান হল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন/এসইও। এসইও হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে গুগল থেকে ভিজিটর আনা হয়। গুগল হচ্ছে সব ধরনের কাস্টমারের একটি বড় উৎস। আমরা কোন কিছু খুঁজতে সর্বপ্রথম গুগল কে ব্যবহার করি। আপনার যা লিখে সার্চ করি তাকে Keyword বলে। গুগল সার্চ রেজাল্টের প্রথমে যেই ওয়েবসাইট লিঙ্ক আসে সে ওয়েবসাইটেই সবচেয়ে বেশি ভিজিটর পাওয়া যায়। আর এই Keyword ভিত্তিক সার্চ রেজাল্টে রাঙ্কিং করাই হল এসইও। যদি কেউ তার ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটের এসইও না করে তাহলে সে অনেক বড় অংকের একটি ভিজিটর হারাবে। যা তার ব্যবসায়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে ব্যহত করবে।

ইমেইল মার্কেটিংঃ

বর্তমান সময়ে আমরা কোন তথ্য বা ফাইল আদান প্রদান করার জন্য যেই মাধ্যমটি সহজ ও নিরাপদ মনে করি তা হল ইমেল। এই ইমেলের মাধ্যমে যে মার্কেটিং করা হয় তাকে ইমেল মার্কেটিং বলে। আপনি যদি USA বা অন্য কোন উন্নত দেশে ডিজিটাল মার্কেটিং করার চিন্তা করেন তাহলে ইমেইল মার্কেটিং এর কোন বিকল্প নাই। তারা সকল ধরনের কাজ ইমেলের মাধ্যমে করতে পছন্দ করে বলে প্রচুর ইমেল ব্যবহার করে। তাই এই মার্কেটিং খুবই কার্যকর। বাংলাদেশেও এর যথেষ্ট ব্যবহার রয়েছে।

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিংঃ

সার্চ ইঞ্জিন সম্পর্কে ইতিমধ্যে উল্লেখ কারা হয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.৩ মিলিয়ন মানুষ গুগল ব্যবহার করে। সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং হল একটি পেইড মার্কেটিং পদ্ধতি। গুগল কে টাকার দেওয়ার মাধ্যমে গুগল নির্দিষ্ট কীওয়ার্ডে সার্চ রেজাল্টের প্রথমে আপনার ওয়েব সাইটের লিঙ্ক দেখাবে। যার মাধ্যমে আপনি প্রচুর পরিমার টার্গেটেড ভিজিটর পাবেন। যা আপনার কাস্টমারে পরিনত হবে। আপনি যদি এই পদ্ধতি ব্যবহার না করেন তাহলে হয়ত আপনার প্রতিযোগী আপনার এই কাস্টমার সোর্স ব্যবহার করে আপনার থেকে এগিয়ে থাকতে পারে।